• প্রচ্ছদ
  • আন্তর্জাতিক
  • কিম জং উনের মৃত্যুর গুজব কেন বারবার সামনে আসে?
  • কিম জং উনের মৃত্যুর গুজব কেন বারবার সামনে আসে?

    সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মারা গেছেন—এমন গুঞ্জনে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়। তবে এসব দাবির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র রোডং সিনমুনে প্রকাশিত ছবিতে তাকে সুস্থ অবস্থায় দেখা যায়। ৪২ বছর বয়সি কিমকে তার মেয়ে কিম জু এ-এর সঙ্গে একটি পোশাক ও জুতার প্রদর্শনী ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। এরপরও এই ধরণের গুজব কেন নিয়মিত বিরতিতে ফিরে আসে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

    উত্তর কোরিয়া বিশ্বের অন্যতম গোপনীয় রাষ্ট্র হওয়ায় সেখানে সঠিক তথ্য যাচাই করা প্রায় অসম্ভব। দেশটি সম্পর্কে তথ্য যাচাই করা কঠিন।

    এই তথ্যের অভাবই নানা জল্পনা-কল্পনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে।

    সর্বশেষ গুজবটি ছড়িয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী চীনা ভিন্নমতাবলম্বী ওয়ানজুন শি। নিজেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘চাইনিজ ডেমোক্রেটিক পার্টি’র চেয়ারম্যান পরিচয় দেওয়া এই ব্যক্তি দাবি করেছিলেন, কিম জং উন গুরুতর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের শিকার হয়ে বেইজিংয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার শাসকগোষ্ঠী এই মৃত্যু গোপন রেখেছে। তবে কিমের সাম্প্রতিক প্রকাশ্যে উপস্থিতির ছবিগুলো তার এই দাবিকে নাকচ করে দিয়েছে।

    এর আগেও ২০২০ সালে কিম জং উনের হৃদ্‌যন্ত্রে অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যুর বিষয়ে ৯৯ শতাংশ নিশ্চিত হওয়ার দাবি করেছিলেন এক পলাতক ব্যক্তি, যা পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। কিমের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের একটি বড় কারণ তার জীবনযাপনের ধরন। তিনি স্থূলকায় এবং ধূমপানে অভ্যস্ত। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অতীতে বারবার সতর্ক করেছে যে, কিম পরিবারের হৃদরোগ ও স্ট্রোকের বংশগত ইতিহাসের কারণে তার স্বাস্থ্যের ঝুঁকি রয়েছে। এর আগেও তিনি চীনের নেতা শি জিনপিংয়ের মৃত্যু নিয়ে জল্পনাসহ বিভিন্ন যাচাইহীন দাবি প্রচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও ছবিগুলো ঠিক কখন তোলা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়ার উপায় নেই। কিমের মৃত্যুর এই গুজব আগের কয়েকটি মিথ্যা দাবির কথাও মনে করিয়ে দেয়। তবে কিম জং উনের পর কে ক্ষমতায় আসবেন, তা তার পূর্বসূরিদের সময়ের মতো স্পষ্ট নয়।

    কিমের মৃত্যুর গুজব বারবার ছড়ানোর পেছনে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা কাজ করে। কিম জং উনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী কে হবেন, তা এখনো অস্পষ্ট। তার দাদা কিম ইল সুং দীর্ঘ সময় ধরে ছেলে কিম জং ইলকে প্রস্তুত করেছিলেন, ফলে ১৯৯৪ সালে ক্ষমতার হস্তান্তর ছিল মসৃণ। অন্যদিকে, ২০১১ সালে বাবার মৃত্যুর আগে কিম জং উনের ক্ষমতা গ্রহণের প্রক্রিয়া ছিল দ্রুত এবং অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ। ২০০৮ সালে তার বাবা কিম জং ইল স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর ছোট ছেলে দ্রুত পদোন্নতি পান।

    বর্তমানে গোয়েন্দাদের ধারণা, কিম হয়তো তার মেয়ে কিম জু এ-কে ভবিষ্যতের নেতা হিসেবে গড়ে তুলছেন। তবে মেয়ের বয়স আনুমানিক ১৩ বছর হওয়ায় এবং দেশটিতে কখনোই কোনো নারী রাষ্ট্রপ্রধান না হওয়ায় এই বিষয়টি এখনো অনিশ্চয়তায় ঘেরা। এছাড়া, কিম জু এ-কে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরাধিকারী হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। ক্ষমতার লড়াইয়ের ক্ষেত্রে কিমের বয়স কম হওয়ায় সেটি একটি বড় ঝুঁকি হতে পারে। দেশটিতে গত তিন প্রজন্ম ধরে কিম পরিবার শাসন করছে।

    কিমের কিছু হলে প্রতিবেশী দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য তার পরিণতি হবে অত্যন্ত গুরুতর। দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ফলে চীন সীমান্তে শরণার্থী সমস্যা তৈরি হবে কি না—এমন সব প্রশ্ন ওয়াশিংটন, সিউল ও বেইজিংকে উদ্বিগ্ন রাখে। দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৮ হাজার সেনা মোতায়েন থাকায় বিষয়টি বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতা বা শরণার্থীর ঢল সামাল দিতে চীন সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতে পারে।

    কিমের শারীরিক অবস্থা নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়লে সাধারণত চীন সীমান্ত বা কূটনৈতিক মিশনগুলোতে তৎপরতা বাড়ার কথা। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপকে জানিয়েছেন, এবার এমন কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। দক্ষিণ কোরিয়ায় আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের নেটওয়ার্ক থেকেও এই খবরের পক্ষে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    দেশটির শাসকরা নিজেরাই মাঝেমধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায় এবং প্রকৃত পরিস্থিতি আড়াল করতে তথ্য গোপন করে থাকে। ফলে তথ্যের এক কৃষ্ণগহ্বরে পরিণত হয়েছে এই রাষ্ট্র। ওয়ানজুন শির মতো ব্যক্তিদের দাবির নেপথ্যে মনোযোগ আকর্ষণ করা অথবা বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক নিয়ে চীনকে অস্বস্তিতে ফেলার উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

    পরিশেষে, কিম জং উনের স্বাস্থ্য নিয়ে গুজবগুলো শুধু মিথ্যা তথ্য নয়, বরং পিয়ংইয়ংয়ের অভ্যন্তরীণ গোপনীয়তা ও অনিশ্চয়তার বহিঃপ্রকাশ। যতক্ষণ পর্যন্ত উত্তরাধিকারের বিষয়টি পরিষ্কার না হচ্ছে এবং তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হচ্ছে, ততক্ষণ এমন গুজব ছড়ানোর সুযোগ থেকেই যাবে।

    আরও পড়ুন

    ইরানি কূটনীতিক |: মুজতবা খামেনি কেন জনসমক্ষে আসেন না
    সৌদিতে নিরাপত্তা উদ্বেগে প্রাইভেট জেটের ভাড়া বেড়েছে ৫০ শতাংশ
    জাপানে বিমানের ভেতরে মিলল সাপ, ফ্লাইট বাতিল
    টাইফুন ‘চাম্পি’র প্রভাবে জাপান ও তাইওয়ানে ফ্লাইট বিপর্যয়
    নির্বাচনের পর ইরানে বড় হামলার ছক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের
    দুবাইয়ে অবস্থানের প্রতি মিনিটে বোনাস মাইল দিচ্ছে এমিরেটস
    দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ১, আহত ৮
    ফরাসি শিক্ষার্থীদের নতুন স্লোগান ‘বিসমিল্লাহ’: নেপথ্যে কি পুলিশ?